
ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ। ভবনটিতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এই ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুর আর লুটপাট হয় ভবনটির ভেতরে থাকা মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ স্মৃতিচিহ্ন। নষ্ট হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচিহ্নগুলো।
এর ঠিক ১৮৪ দিন পর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ‘৩২ ধানমন্ডি’। ক্রেন আর বুলডোজারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত টুকরো ইট পাথরে ঝাজরা হয় বংগবন্ধুর বাড়ি।বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জড়িত বাড়িতে হামলা হয় বুধবার রাতে। সোসাল মিডিয়ায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার কথা ছিল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার। ছাত্রলীগ এবং অওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই ঘোষনার পর থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে হাসিনা এবং মুজিব বিরোধী শক্তি গুলো রাস্তায় নামতে শুরু করে। তারা পাল্টা ডাক দেয় ‘মার্চ টু ৩২ ধানমন্ডি’। বলা হয় বুলডোজার মিছিলের কথা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই অভিযানের ডাক দেওয়া হয় বলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
রাত থেকেই উত্তেজিত জনতা দখলে নেয় ধানমন্ডি ৩২, শুরু হয় তান্ডব ভাঙচুর। ৫ আগস্ট হাসিনা দেশ ছাড়ার পর ওই বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বুধবার রাতে কার্যত ভেঙে ফেলা হয় বঙ্গবন্ধুর বাসভবন। সামাজিকমাধ্যমে দেখা গিয়েছে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির একটা অংশ সম্পূর্ন ভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বাড়ি ভাঙার পাশাপাশি চলছে লুঠ।
শেখ হাসিনার বিদেশ থেকে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণার পরই অশান্ত হয় বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে তাণ্ডব। চলল অবাধে ভাঙচুর। ভবনের তৃতীয় তলের একটি অংশে জ্বলতে দেখা গিয়েছে আগুনও।
বৃহস্পতিবার সকালেও শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙছে দুষ্কৃতীরা। ভারী যন্ত্র দিয়ে অবাধে বাড়ি ভাঙার কাজ চলছে। বাড়ির সামনের অংশে চারতলা পর্যন্ত অনেকটাই গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা।ইট, কাঠ, হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা হল জানালা, দরজা, তারপর আনা হয় ক্রেন ও বুলডোজার। ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের সমৃতি জাদুঘরে গিয়ে এভাবেই বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালান বাংলাদেশের তথাকথিত ‘২৪-এর বিপ্লবী ছাত্র–জনতা’।
এ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মৌলবাদীরা। সাফ জানান হয়েছে, স্বৈরাচারের কোনও চিহ্ন রাখা হবে না। বাড়ির বিভিন্ন অংশে লাল কালি দিয়ে লেখা হয়েছে স্বৈরাচার সাবধান।
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা ভাষণে বলেন, ‘ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে জাতির পিতা শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছিল। তখনও এই বাড়িটি তারা লুঠপাট করেছিল। কিন্তু আগুন দিয়ে পোড়ায়নি, ভাঙেনি। অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, বিশ্বের বড় বড় নেতারা এই বাড়িতে এসেছেন। আজ এই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কেন? বাড়িটির কী অপরাধ? এই বাড়িটিকে কেন এত ভয় পাচ্ছে তারা।
এতসব ঘটনার পরও সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য রেখেছেন হাসিনা। বলেছেন ৩২ ধানমন্ডি থেকেই মুজিব ঘোষনা করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা। বংগবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িটি পুড়িয়ে ফেললেও বংগবন্ধুর ইতিহাস মুচে ফেলতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এর বদলা নেবেন।