
পৃথিবীতে হাতে গোনা দুয়েকটা মানুষ পাওয়া যায় যারা নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের জন্য নিবেদিত হয়, অন্যের সাফল্যে দেখে আনন্দ পায়, অন্যকে যোগ্য স্থানে পৌঁছে দিতে নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকে। তেমনই একজন মানুষ হলেন রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ইলিয়াস হোসাইন।
বর্তমান রায়গঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন শোভন সরকারের যোগ্যতা ও অসীম জনপ্রিয়তার যোগ্য আসনে আসীন করতে বহু সময় ধরে সুদিন দুর্দিন ও কঠিন সময়ে আপন ভাইয়ের মতই সবসময়ই পাশে থেকেছেন মেহেদী হাসান ইলিয়াস হোসাইন। গোলাম হোসেন শোভন সরকারের পাশে থাকতে গিয়ে মেহেদী হাসান ইলিয়াস হোসাইন হয়েছেন নির্যাতিত, হয়েছেন পাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।
অবশেষে হারিয়ে ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদ। ধুলায় মিশে নিশ্বেষ হয়ে গিয়েছিল ধানঘড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন।
তবুও থেমে থাকেননি তরুন প্রজন্মের স্মার্ট নেতা মেহেদী হাসান ইলিয়াস হোসাইন। শোভন বিজয়ের যুদ্ধপথের যড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে ঘোড়া প্রতীককে বিজয়ী করতে বেগবানে উত্তাল করেছিলেন শোভনের রাজপথ।
তার জন্য শত রাত নির্ঘুম হতে হয়েছে মেহেদী হাসান ইলিয়াস হোসাইনকে। ক্লান্ত দেহ নিয়ে শোভন ঘুমিয়ে পড়লেও ঘুমাননি মেহেদী হাসান ইলিয়াস হোসাইন। রাত দিন এক করে ছুটে বেড়িয়েছেন গ্রাম পাড়া মহল্লা হাটবাজার মাঠঘাট পথে প্রান্তরে। তার ভাবনায় চ্যালেঞ্জে মিশে ছিল শুধুই শোভনের বিজয়। ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন গোলাম হোসেন শোভন সরকার। দলীয় মনোনয়ন, দলীয় প্রতীক,দলের খর্বক্ষমতার সময়ে ইমন তালুকদারের বিপক্ষে অগনিত নেতাকর্মী নিয়ে ওপেনে শোভন সরকারের নির্বাচনী প্রচারণায় রাজপথে নেমে পড়েন মেহেদী হাসান ইলিয়াস হোসাইন।শোভনের জয়জয়কার প্রতিধ্বনিতে কম্পিত হয় রায়গঞ্জের রাজপথ। কোনঠোসা হয়ে পড়েন দলীয় প্রতীকের প্রার্থী ইমন তালুকদার। শোভনকে পরাজিত করতে দলীয় শক্তির ব্যবহার করে শোভনকে মাঠ থেকে মুছে ফেলার নানা চেষ্টা করা হয়। বিব্রত হন ভেংগে পড়েন শোভন কিন্তু ভেংগে পড়েননি মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইন। নির্বাচনে জিততে তড়িৎগতিতে নানামুখী পরিকল্পনায় নির্বাচনী মাঠকে আবার সর্বোচ্চ অবস্থায় ফিরে আনতে সক্ষম হন। দুইদিন পর ভোট রাউন্ড এটাক এ ভোটের ফলাফলে পরাজিত হন শোভন। মনের শক্তি দৃঢ় হলেও
তবুও নির্বাচন মাঠের নতুন অভিজ্ঞতায় কিছুটা ভেংগে পড়েন গোলাম হোসেন শোভন সরকার। কিন্তু সাহস শক্তি চ্যালেঞ্জ ও বৈপ্লবিক চেতনার মাধ্যেমে গোলাম হোসেন শোভন সরকারের পাশে দাড়ান মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইন। সেদিন মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইন বলেছিলেন আজ না হয় কাল উপজেলার চেয়ার শোভনের জন্য। সেই থেকে দীর্ঘ পাচটি বছর প্রায় নির্ঘুম যাযাবর জীবনযাপন করেছেন মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইন- সাজিয়েছেন নানা পরিকল্পনা, নির্বাচনে শোভনের বিজয় সুনিশ্চিত করতে করছেন গভেষণা। পাড়া গ্রাম ভিত্তিক চালিয়ে ছিলেন জরিপ। তারপর কি করতে হবে? কিভাবে করতে হবে? একের পর এক নানামুখি মাষ্টারপ্লান সাজিয়ে গোলাম হোসেন শোভন সরকারের মাধ্যেমে বাস্তবায়ন করে, পুরো রায়গঞ্জ গোলাম হোসেন শোভন সরকারের দখলে নিয়ে আসেন। মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইন শুধু এখানেই থেমে ছিলেন না তার সকল অনুসারীদের মাধ্যমে যড়যন্ত্রকারীর নীলনকশা বানচাল করতে সব সময় তৎপর অভিযান চালিয়েছেন মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইন। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই ভোট লড়ায়ে মাঠ দখলে নিজে এবং তার অনুসারীদল ডিউটি ভাগ করে নিয়ে মাঠে সর্বদা সক্রিয় থেকেছেন মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইন ও তার সহযোগীরা। এছাড়াও শোভন ভক্তদের আবদার নিজেই পুরন করছেন অনেক সময়। কখনো আবার শোভন সমর্থকদের সন্তুষ্টি করতে গিয়ে নিজের পকেটটাও ফাকাকরে দিয়েছেন। শোভনের শোভা যখন চারদিকে দিকবিদিক বিজয়ের জয়ধ্বনি আলোচনায় মুখরিত ঠিক তখনই মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইন শান্তি পেতেন প্রশান্তি পেতেন। কিন্তু উপজেলা সেই চেয়ারটাতে শোভন কবে বসবে এটা মনে হলেই বিচলিত হতেন ইলিয়াস ফলে আর ঘরে বসে স্থির থাকতে পারতেন না তিনি শোভনের মাঠ গোছাতে কাজ আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দিতেন। এভাবেই রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে গোলাম হোসেন শোভনের বিজয় সুনিশ্চিত যখন অলিগলির লোক মুখে শুনতে পেতেন তবুও কেন যেন প্রসান্তি পেতেন না মেহেদী হাসান ইলিয়াস হোসাইনের। তারতো একটাই চাওয়া চুড়ান্ত বিজয় দুচোখ দেখবে শোভন উপজেলা সেই চেয়ারে বসে আছে।
নানা উদ্বেগ উৎকন্ঠা উত্তেজনার প্রহর শেষে এলো ৪ জুন ভোটের আগের দিন গোলাম হোসেন শোভন সরকারের নলছিয়ার বাড়িতে সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদের অনুসন্ধানী চোখ মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইনের দিকে- তিনি যেন শান্ত পাথর নিরব আর স্মৃতিশক্তিহীন একটি মানুষ। অনুসন্ধানের প্রখরতা আরো তীব্র হয় সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদ টিমের এক প্রতিনিধি কৌশলে জানেন শোভনের বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর একগ্লাশ পানিও পান করবেন না। বলিষ্ঠ নেতার উজ্জ্বল চেহারায় মলিনতা বিষন্নতার ছাপ নিয়েই ৫ জুন ঠিক যেন আগের চেয়ে আরো অবনতি মন, আরো বিষন্নতায় মলিন মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইন -ভোট চলছে চারদিক থেকে শোভনের ঘোড়ার সুসংবাদ তবুও তৃপ্তি নেই ইলিয়াসের। সকাল গড়িয়ে দুপুর দুপুর গড়িয়ে রাত বিজয় ধনিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘোড়ার শ্লোগানে মুখরিত। ধৈর্যের বাধ ভেংগে অবশেষে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ফলাফল প্রকাশ- রায়গঞ্জের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় রেকর্ড বিজয় পেলেন শোভন সরকার -আনন্দে কেদে ফেললেন মেহেদী হাসান ইলিয়াস হুসাইন।